:

ফটিকছড়িতে সড়কে চাঁদাবাজির অভিযোগ

top-news

প্রতিনিধি, ফটিকছড়ি,চট্টগ্রাম।
চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে সড়কে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, উপজেলার বিভিন্ন সড়কে গাছ, বাঁশ, বালু ও মাটি পরিবহনের ক্ষেত্রে স্থানীয় একটি গ্রুপকে নির্ধারিত হারে চাঁদা দিতে হয়।  আইন শৃংখলা বাহিনীর নামে  একটি চক্র এই চাঁদা আদায় করছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। চালকদের দাবি, পুলিশি হয়রানি এড়াতে বাধ্য হয়েই নিয়মিত চাঁদা দিতে হচ্ছে। 

অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আগে 'জনৈক সাদ্দাম' নামে এক ব্যক্তি পুলিশের অধীনে মাসিক বেতনে কাজ করতেন। পরবর্তীতে  আইন শৃংখলা বাহিনীর কতিপয় দুনীর্তিবাজ কর্মকর্তার সাথে মিলে মিশে  চাঁদা আদায়ের সিন্ডিকেট গড়ে তুলেন অভিযোগ উঠে।

চক্রটি সড়কে চলাচলকারী বিভিন্ন পরিবহন থেকে চাঁদা আদায়ের পর সেগুলি  বিভিন্ন ব্যক্তিদের নামে বিল বন্টন করে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।   

স্থানীয় সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়কসহ পাইন্দং-কাঞ্চননগর, ফটিকছড়ি-হেয়াকো, পেলাগাজী-বারৈয়ারঢালা এবং লেলাং-রাঙামাটিয়া সড়কে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক গাছ, বাঁশ, বালু ও মাটিবাহী যান চলাচল করে। এসব যান থেকে গাড়িপ্রতি প্রায় ১ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা নেওয়া হয়। পাশাপাশি মাটি কাটা, জায়গা ভরাট ও বালু উত্তোলনের প্রতিটি স্পট থেকে মাসে ৫ হাজার টাকা করে আদায় করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। 

ফটিকছড়ির বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী যানবাহন থেকে বিপুল পরিমান  অর্থ চাঁদাবাজির মাধ্যমে হাতিয়ে নেয়ার পর সেগুলি আবার তারা নিজেদের মধ্যে বিলি বন্টন করে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। নিরপত্তার কারনে তারা নিজেদর নাম প্রকাশে অপারগতা প্রকাশ করেন।

চাঁদা আদায়ের বিষয়টি স্বীকার করে সাদ্দাম দাবি করেন, প্রভাবশালী মহলের চাপে  কাজটি করে থাকেন।  

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ড্রামট্রাক চালক বলেন, "মাটি পরিবহনের কাজ শুরু করার আগেই গাড়িপ্রতি ৫০০ টাকা দিয়ে ‘লাইন’ নিতে হয়। তা না হলে পুলিশ গাড়ি আটক করে, পরে জরিমানা দিয়ে ছাড়াতে হয়।" 

কাঞ্চননগরের গাছ ব্যবসায়ী আবছার বলেন, "সেগুন গাছের গাড়িপ্রতি ১ হাজার টাকা এবং অন্যান্য গাছের জন্য ৭০০ টাকা করে দিতে হয়।"

সর্তাখাল এলাকার একটি বালুমহলের ম্যানেজার খোকন দে বলেন, "বৈধ বালুমহল হলেও মেশিনে বালু উত্তোলনের কারণে মাসে ৫ হাজার টাকা করে দিতে হয়।"

অন্য এক ইজারাদার জানান, " টাকা দিতে দেরি হলে নানাভাবে হয়রানি করা হয়।

ফটিকছড়ি থানার ওসি মুহাম্মদ সেলিম জানিয়েছেন চাঁদাবাজির বিষয়িট অবগত নন ।  তবে, খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *